রাজশাহীর চারঘাটে উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া রোগ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শতাধিক রোগী স্ক্যাবিসের চিকিৎসা নিতে আসছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এ ছাড়া এ রোগে আক্রান্ত অনেকেই উন্নত চিকিৎসা নিতে ছুটছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছাড়াও নারীদের মধ্যে স্ক্যাবিসের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন রোগী স্ক্যাবিসের সমস্যা নিয়ে উপজেলা হাসপাতালে আসতেন, এখন সেখানে দৈনিক গড়ে অর্ধশতাধিক বিভিন্ন বয়সী রোগী আসছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা রায়পুর এলাকার লুৎফুন্নেছা, রাবেয়া, সুমিসহ একাধিক নারী বলেন, প্রথমে এমনিতেই শরীর চুলকাত। পরে কয়েক দিনের মধ্যে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ধরনের ক্রিম, লোশন ও ট্যাবলেট খেয়েও ভালো হচ্ছেন না।
অপরদিকে, সাবিনা, হাওয়া বেগম, রবিউল ইসলাম, সুমন আলীসহ একাধিক রোগীর অভিযোগ, করোনার টিকা নেওয়ার পর থেকেই এমন রোগ শরীরে বাসা বেঁধেছে।
চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিলটন কুমার বলেন, স্ক্যাবিস মাঝে-মধ্যে হয়। তবে আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত পরিস্থিতিতে এর প্রকোপ বাড়ে। যেহেতু স্ক্যাবিস ত্বকের একটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই বসবাসের জায়গা, বিশেষ করে ঘরবাড়ি, মেস ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্ক্যাবিসে আক্রান্ত সব বয়সী রোগীর পাশাপাশি শিশুরাও আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসছে। যদিও শিশু আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। স্ক্যাবিসে আক্রান্ত রোগীদের সংক্ষিপ্ত হিস্ট্রি নিয়ে দেখা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে যেসব মাদ্রাসায় একসঙ্গে অনেক আবাসিক শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে থাকেন, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।
তিনি আরও বলেন, পরিবারের কেউ একজন স্ক্যাবিসে আক্রান্ত হলে অনেকে সাধারণ চুলকানি মনে করে চিকিৎসা নেন না। ফলে ততদিনে পরিবারের সবাই আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। অনেকেই ওষুধের কোর্স সম্পন্ন না করার কারণে আবার আক্রান্ত হচ্ছেন। অসচেতনতার কারণে স্ক্যাবিস নিরাময়ের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, যেহেতু স্ক্যাবিস ত্বকে ছড়ায়, ফলে সহজেই অন্য ব্যক্তির ত্বকে গিয়ে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এজন্য পরিবারের একজন ওষুধ ব্যবহার করলে বাকি সবাইকেও একই ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া সব সময় ঘরবাড়িসহ সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক ডা. মিলটন কুমার।




































