ববি’তে উপাচার্যের একনায়কতন্ত্র বাড়ছে প্রশাসনিক জটিলতা ॥ মুহম্মদ ইমন খন্দকার হৃদয় ॥ দক্ষিণবঙ্গের সাধারণ মানুষের উচ্চশিক্ষা অর্জনের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্মলগ্ন থেকেই সংকট আর জটিলতা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। দেশের বেশিভাগ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সংকট কাটিয়ে বিশ্বমানের পড়ালেখা নিশ্চিত করার দিকে অগ্রগামী হলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই হিসাবের খাতাটা নিতান্তই শুন্য।
কোটা আন্দোলনে শহীদ শিক্ষার্থীদের তালিকা দেখুন
সমাধানের তুলনায় সমস্যাই যেন এখানের নিত্যদিনের সঙ্গী। গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ- উপাচার্য এর পাল্টাপাল্টি নোটিস দেয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক জটিলতা সকলের সম্মুখে দৃষ্টিপাত হয়। এরপরে সময়ের বার্তা অনুসন্ধান করলে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। এসকল তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কথা বলে পাওয়া যায়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পঞ্চম উপাচার্য হিসেবে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নিয়োগ পান ড. শুচিতা শারমিন।
এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। যোগদানের পরেই পতিত সরকারের দোসরদের রাতের আঁধারে কাউকে না জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন তিনি এবং গত বছরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুল মিম নিহত হলে দায়িত্বের প্রতি অবহেলার কারণ দেখিয়ে শুচিতা শারমিনের পদত্যাগ চান সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে তারা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন। সর্বশেষ ২২ দফা দাবি দিয়ে স্বপদে উপাচার্যকে বহাল রাখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কিন্তু কয়েক মাস হয়ে গেলেও চোখে পড়ার মত সেই দাবি কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। উল্টো সংকট নিরসনের বদলে সংকট বেড়েই চলছে।
উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ৫ মাস হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন সিন্ডিকেট সভা আয়োজন করতে পারেননি, সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নিয়ে কোন মিটিং করেননি, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মত নিয়োগ পেয়েছে উপ- উপাচার্য কিন্তু তার দায়িত্ব এখন পর্যন্ত বুঝিয়ে দেননি তিনি। দিনের পর দিন ফাইল আটকে থাকা, পর্যাপ্ত মিটিং না করা, ২৮ দিন ঢাকায় গিয়ে থাকা এবং ঢাকার অফিসে বসে ফাইল সাইন করা, কর্মকর্তাদের ঢাকায় নেয়া,
ঢাকা থাকাকালে প্রো – ভিসিকে দায়িত্ব না দিয়ে যাওয়া এমন নানা ধরনের অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকরা সময়ের বার্তাকে বলেন,’ দাপ্তরিক অনেক কাজ রয়েছে যা সহজে করা যায়। প্রতিদিনের কার্যের ভিতর অন্যতম ফাইল সাক্ষর করা।
সেটি যদি প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন করা হয় তাহলে যেকোন প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কাজে সচলতা ফিরে আসে। আমাদের বিভাগগুলোতে যেসকল কাজে উপাচার্য মহোদয়ের সাক্ষর বা আদেশের প্রয়োজন হয়। তা বেশিভাগ সময়ই দেরি হয়। যার ফলে ঐসকল কাজ বাস্তবায়ন করতে বেগ পেতে হয়। যেমন ফাইনাল পরীক্ষা আয়োজন করা,
শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট করা এসকল কাজ। উপ- উপাচার্য থাকার পরেও অনেক বিভাগের নানা ফাইল সাক্ষরের অভাবে আটকে রয়েছে। এতে বিভাগের কাজে স্থিরতা প্রতীয়মান হয়। আমরা আশা করি অত্র সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে’। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং ইনফরমেশন বিভাগের একজন অধ্যাপক সময়ের বার্তাকে বলেন,’ বিগত দিনের উপাচার্যগণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেই সকল শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন অথচ বর্তমান উপাচার্যের সাথে বৈঠক তো দূরের কথা দেখা করাও ভাগ্যের ব্যাপার। ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন না।
বিভাগের নানা সমস্যার কথা জানালেও উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। আমাদের প্রচুর শ্রেণিসংকট রয়েছে, প্রচুর গবেষণার অভাব রয়েছে। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন ভূমিকা না রাখে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কখনোই অগ্রসর হবে না।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অধ্যাপক সময়ের বার্তাকে বলেন,’ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বিভাগে এখনো প্রচুর সেশন জট রয়েছে আর তার অন্যতম কারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতা।
গত ৫ ই আগস্টের পরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি ছিল সেশনজট নিরসন করা কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটি কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে? এই গুরুতর ব্যাপারে কোন শিক্ষকের সাথে আলাপই করছে না উপাচার্য মহোদয়।
সেশনজট তখনই নিরসন হবে যখন শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত ক্লাস পাবে, সঠিক সময় পরীক্ষা নেয়া হবে, সঠিক সময় ফলাফল প্রকাশ পাবে কিন্তু আমাদের ক্লাস করার জন্য মাত্র একটি রুম। প্রতিটি বিভাগের জন্য কয়েকটি ক্লাস রুম দরকার অথচ সেটি একাধিকবার উপাচার্য মহোদয় সহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানা হয়েছে কিন্তু ফল জিরো’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ টি অনুষদের একাধিক ডিন অভিযোগ করেন, তাদের অধীনে অনেক বিভাগের নথিপত্র দিনের পর দিন সাক্ষরের অভাবে আটকে রয়েছে এবং প্রশাসনিক কাজ লাঘব করার জন্য উপাচার্য এর সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সাক্ষাত পাননা। একপ্রকার অবজ্ঞা করা হয়।
সকলের পরামর্শ ছাড়া একাই নানা সিদ্বান্ত নিয়ে থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডিন সময়ের বার্তাকে বলেন,’ উপাচার্য মহোদয় নিয়ম বহির্ভূত অনেক তার পছন্দের ব্যক্তিবর্গকে নানা পদে পদায়ন করেছেন। অনেক ব্যক্তিকে বিনা কারণে অন্য বিভাগে স্থানান্তর করেছেন। তাদের বসার জন্য কোন রুম পর্যন্ত দেয়া হয়নি।
এতে করে অনেক ব্যক্তিই তাদের নিজ কাজে মনোবল হারিয়েছেন যাতে ভবিষ্যৎ এ প্রশাসনিক কাজে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ইসরাত জাহান লিজা এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ধীমান রায় জানিয়েছেন তাদের অধীনের বিভাগগুলোতে তেমন কোন জটিলতা নেই। হল সূত্রে জানা যায়,
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ২২ টি দফার একটি দফা ছিল হলের আবেদন ফি ও হল সিট ভাড়া অর্ধেক করা। এই বিষয়ে একটি কমিটি করা হয় এবং তার রিপোর্ট গত ৪ ডিসেম্বর উপাচার্য দপ্তরে পাঠানো হয় কিন্তু সেটির আপডেট এখন পর্যন্ত পাননি ৪ টি হলের প্রাধাক্ষ্যরা। যার কারণে শিক্ষার্থীদের নানা নেতিবাচক কথার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত হাউস টিউটর নিয়োগ না দেয়ার ফলে বিভাগ ও হল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
ববি’তে উপাচার্যের একনায়কতন্ত্র বাড়ছে প্রশাসনিক জটিলতা
যার কারণে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান চেয়েছেন এসকল হলের প্রাধাক্ষ্যরা। কবি জীবনানন্দ দাশ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকার সময়ের বার্তাকে বলেন,’ আমার রিসার্চ সেন্টারের একটি ফাইল দু মাস ধরে আটকে রয়েছে। যার কারণে রিসার্চ সেন্টারের স্বাভাবিক কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে।
আশাকরি, এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।’ একই অভিযোগ করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের প্রধান প্রফেসর ড. হাফিজ আশরাফুল হক। তিনি সময়ের বার্তাকে বলেন,’ বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গবেষণার বিকল্প কিছু নেই। দিন যেমন বদলিয়েছে বর্তমানে গবেষণার ধরনও বদলিয়েছে। এখন দরকার বিশ্বমানের গবেষণা।
সেই বিষয়ে আমি উপাচার্য মহোদয়কে বলেছি কিন্তু আশানুরূপ কোন ফলাফল পায়নি। আমার স্বাধীনভাবে কাজ করতে নানা সংকট দেখতে পাচ্ছি। এছাড়াও আমার কিছু ফাইল আটকে রয়েছে। আমি চাই তার দ্রুত সমাধান হোক।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় বেশিভাগ বই পুরানো এবং অনেক বই ছিড়ে গিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রিডিং রুমে অধ্যয়নরত অনেক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বইয়ের সংকট দীর্ঘদিনের। খুব কম বই রয়েছে লাইব্রেরিতে। পড়ালেখার জন্য যাবতীয় বই লাইব্রেরিতে নেই। বই ক্রয়ের ব্যাপারে একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে জানালেও আশানুরূপ কিছুই হয়নি।
গত বছরে বই ক্রয় করার জন্য ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হলেও তা এখনো কাগজে কলমেই রয়েছে। একাধিক সূত্র বলছে উপাচার্য এর স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এমন হচ্ছে তবে বিষয়টি অস্বীকার করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান প্রফেসর ড. গাজী জহিরুল ইসলাম সময়ের বার্তাকে বলেন,’
নানা কারণে বই ক্রয় করতে আমাদের একটু দেরি হয়েছে তার ভিতর অন্যতম বিভিন্ন বিভাগে তাদের প্রয়োজনীয় বইয়ের লিস্ট চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বিভাগ থেকে সেই বইয়ের লিস্ট দিতে দেরি করেছে। এখনো তিনটি বিভাগ লিস্ট দেয়নি। তাই তাদের বাদ রেখেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ফাইল পাঠানো হয়েছে। আশাকরি দ্রুত আমরা বই ক্রয় করতে পারব’।
গতকয়েক মাস আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত কোন ঔষধ ছিলনা। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল উপাচার্য এর সাক্ষরের অভাবে ফাইল আটকে রয়েছে। যার ফলে ঔষধ ক্রয় করতে পারছিল না মেডিকেল সেন্টার। তবে এখনো পর্যাপ্ত ঔষধ নেই। শিক্ষার্থীদের চাহিদা মোতাবেক ঔষধের ঘাটতি রয়েছে। খুব অল্প পরিমাণ ঔষধ দেয়া হয়। এমনটাই অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের। এ সম্পর্কে মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাম্মী আরা নিপা সময়ের বার্তাকে বলেন,’
নতুন আরো অনেক ঔষধ ক্রয় করার জন্য অর্থ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে যদি অতিদ্রুত আমরা অনুমোদন পেয়ে যাই। তাহলে শিক্ষার্থীদের চাহিদা মোতাবেক আরো ঔষধ ক্রয় করতে আমরা সক্ষম হব। তবে আপাদত কোষাগারে যে পরিমাণ ঔষধ রয়েছে তাই শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে’।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের গতবছরে প্রকাশ্য তাদের মারামারি এই সমস্যাকে আরো প্রকট করে। গত ৫ ই আগস্টের পরে পতিত সরকারের দোসর বলে অনেক কর্মকর্তাদের স্থানান্তর করা হয়।
তাদের ভিতর অনেক কর্মকর্তা এখনো বসার জন্য কোন রুম পাননি। অনেক কর্মকর্তাদের কর্মচারীদের দ্বারা লাঞ্ছনার স্বীকার হতে হচ্ছে এবং কী চলতি বছরে একজন কর্মকর্তাকে অফিস টাইমে জুতাপেটা করে একজন কর্মচারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক কেবলমাত্র ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তারাই এসি পাবেন অথচ অনেক কর্মকর্তা ৫ম গ্রেড ব্যতীত তারা এসি পেয়েছেন। উপাচার্য তার ইচ্ছামত পছন্দের ব্যক্তিদের পদায়ন ও স্থানান্তর করে থাকেন
এমনটাই অভিযোগ অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের। ফলে অনেক কর্মকর্তা তার কাজের পরিবেশ ফিরে পাচ্ছেন না। অনেক কর্মকর্তা তাদের মনোবল হারিয়ে ফেলেছেন কাজের প্রতি। তাই ক্রমান্নয়ে প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এসকল কর্মকর্তাদের ভিতর ব্যক্তিগত রেষারেষি ও গ্রুপিং অন্যতম দায়ী। তবে এসকল বিষয় অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মোঃ মনিরুল ইসলাম সময়ের বার্তাকে বলেন,’
কাউকে পদায়ন বা স্থানান্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাহিবামাত্রই করতে পারে। যেসকল কর্মকর্তা বসার রুম পায়নি। এমন অভিযোগ করেছে তারা এখন পর্যন্ত কোন লিখিত আমার কাছে দেয়নি। যদি তারা আমাকে লিখিত আকারে যেকোন অভিযোগ জানায়। আমি তদন্তে করে যথাযথ ব্যবস্থা নিব।
আর এসির বিষয়টি আমার জানামতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরানো কোন এসি থাকলে হয়তবা তা সংস্কার করে এসকল কর্মকর্তারা লাগিয়েছেন। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ কোন অর্থ প্রদান করেনি’। গত ৩০/১০/২০২৪ তারিখে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মত উপ- উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান প্রফেসর ড. গোলাম রব্বানী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক উপাচার্যের পর সকল কিছু দেখভালের দায়িত্ব তার। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ উপাচার্য এর পাশাপাশি তিনিও করবেন। এতে করে উপাচার্য এর কাজে সহজ হবে এবং দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হবেনা। উপাচার্য এর অবর্তমানে তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। উপ- উপাচার্য হিসেবে তার যোগদানের প্রায় সাড়ে তিন মাস হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়নি।
এমনকি তাকে গুরুত্ব পর্যন্ত দেয়া হয়নি এমনই দাবি করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ- উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম রব্বানী সময়ের বার্তাকে বলেন,’ আমি যোগ দিয়েছি প্রায় সাড়ে তিনমাস হলো অথচ একটি ফাইল এখন পর্যন্ত আমার কাছে পাঠানো হয়নি। আমি উপাচার্যকে মৌখিক ও লিখিত উভয়ই জানিয়েছি কিন্তু কোন জবাব পায়নি। বাধ্য হয়ে আমাকে অফিসে পত্রিকা পড়েই সময় কাটাতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছে বেশিভাগ সময় ফাইল পড়ে থাকে সেগুলো যদি দেয়া হতো তাহলে এসকল কাজে স্থবিরতা সৃষ্টি হতোনা। সরকার আমাকে এখানে বসে থাকার জন্য নিয়োগ দিয়েছে? আমি কাজের মানুষ। আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যিই আমি অবজ্ঞার স্বীকার হয়েছি। উপাচার্য মহোদয় অনেক সময় বাহিরে থাকেন তখন বিধি মোতাবেক দায়িত্ব আমার পালনের কথা কিন্তু সেই দায়িত্ব কাউকে দিয়ে যাননা। যেটা নিয়ম বহির্ভূত।
‘ বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রসর করতে তিনি নানা পরামর্শ দিয়েছেন কিন্তু সেগুলো গ্রাহ্য তো দূরে থাক অনেক সময় ফোন দিলেও রিসিভ করেন না এমন দাবি করে তিনি আরো বলেন,’ বিশ্ববিদ্যালয় এককভাবে কারো ডিসিশনের উপর চলতে পারেনা। তাহলে এতগুলো পদ কেনই বা রয়েছে? সকলের সাথে সমন্নয় করা ছাড়া ইতিবাচক কোনকিছু অর্জন করা সম্ভব না। আমি আশা করেছি, ট্রেজারার সহ আমরা তিনজন একটি টিম ওয়ার্ক হয়ে কাজ করব। উদ্ভাবিত সংকটগুলো নিরসনে কাজ করব। বাস্তবে আমাদের সাথে কোন আলোচনাই করা হয়না।
একটি গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন চলতে থাকলে ভালো কিছু বয়ে আনবে না। একনায়কতন্ত্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের ছাত্ররা সংগ্রাম করেছে অথচ সেটি যদি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কায়েম হয় তবে সেটি জুলাই- আগস্ট চেতনার পরিপন্থী। ‘ চলতি সপ্তাহে উপ- উপাচার্য দপ্তরের সহকারী রেজিস্টার মোঃ সাকিজ উদ্দীন সরকারকে বিনা কারণে স্থানান্তর করা হয়েছে। যার কারণে উপ- উপাচার্য দপ্তরের প্রশাসনিক কাজ স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
এখন পর্যন্ত কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। এটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপ- উপাচার্য ড. গোলাম রব্বানী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান উপাচার্য, উপ- উপাচার্য, ট্রেজারার। এই তিন জনের ভিতর যদি দায়িত্বপূর্ণ সম্পর্ক না থাকে তাহলে কখনোই
ববি’তে উপাচার্যের একনায়কতন্ত্র বাড়ছে প্রশাসনিক জটিলতা
বিশ্ববিদ্যালয় আগাবে না এমন দাবি করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. হারুন – অর- রশীদ সময়ের বার্তাকে বলেন,’ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুপ দিতে সরকার আমাকে নিয়োগ দিয়েছে। আমি এসেই দেখেছি নানা সংকট এখানে আছে। যার ভিতর অন্যতম ভবন সংকট। এছাড়াও পলিসি পরিবর্তন করা দরকার। এ ব্যাপারে একাধিকবার আমি উপাচার্যকে মহোদয়কে জানিয়েছি কিন্তু আশানুরূপ কোন উত্তর তার থেকে পায়নি।
উন্নয়ন বাজেট রয়েছে এবং তা বরাদ্দকৃত তবে তা খরচ করার গতি খুব স্লো। উপাচার্য মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করা অনেক সময় আমার পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তার অন্যতম কারণ তিনি ফোন রিসিভ করেন না। কোন সাক্ষাৎ করেন না। এমন উদাসীনতা থাকলে স্বাভাবিক অর্থেই দোটানায় পড়তে হয়’।
জুলাই আগস্ট আন্দোলনকালের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সমন্নয়ক সুজয় শুভ সময়ের বার্তাকে বলেন,’ বর্তমানে ভার্সিটিতে যে সমস্যা উদ্ভব হয়েছে তা নিতান্ত দুঃখজনক। যে যার দায়িত্ব পালন করবে এবং তা নিশ্চিতকরণ উপাচার্যকে করতে হবে এটাই তো উচিত কিন্তু সেটি না করে পাল্টাপাল্টি নোটিস কাম্য নয়। যদি তাদের ব্যক্তিগত কোন দ্বন্দ্ব থাকে তা ব্যক্তিগত রাখাটাই সকলের জন্য মঙ্গলজনক।
ভার্সিটি প্রশাসনকে দ্বন্দ্ব করার জন্য সরকার নিয়োগ দেয়নি। শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু পরিবেশে লেখাপড়া নিশ্চিত করার জন্য দিয়েছে। মাঝেমধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ক্লাসের অভাবে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হয় অথচ ভবন করার জন্য যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ রয়েছে কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
এগুলোর কারণ প্রকাশ করতে হবে। সর্বোপরি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে। আপনারা দায়িত্বশীল আচরণ করে সংকটময় এই বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রসর করবেন,গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন।’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এডিসন বৈদ্য সময়ের বার্তাকে বলেন,’
সম্প্রতি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক জটিলতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দায়িত্ব হস্তান্তরের স্বচ্ছতা না থাকায় এবং উপাচার্যের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতার কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন থমকে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করা হচ্ছে না, যার ফলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুবিধাসমূহের অভাবে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ নেই, ক্লাসরুম ও ল্যাব উন্নত হচ্ছে না এবং শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সুবিধাও নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
প্রশাসনিক এই অচলাবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানাই। যথাযথ নিয়ম মেনে উপ-উপাচার্যসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয়ের নিশ্চয়তা দেওয়া হোক, যাতে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ উন্নত হয়। আমি চাই, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় একটি সুশৃঙ্খল ও মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে যাক,
যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘেœ জ্ঞান অর্জন করতে পারবে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে পারবে।’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ তৌফিক হাসান তপু সময়ের বার্তাকে বলেন,’ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে ভিসি এবং প্রো ভিসির মধ্যকার টানাপোড়নের সম্পর্ক সত্যিই সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বিব্রতকর। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একযুগ পেরিয়ে গেলেও আমাদের এক ক্লাসরুম ভাগাভাগি করে ক্লাস করতে হয়, হলে এক সিটে দুইজন ঘুমাতে হয়।
ববি’তে উপাচার্যের একনায়কতন্ত্র বাড়ছে প্রশাসনিক জটিলতা
যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাজ শিক্ষার্থীদের সুযোগ – সুবিধা নিশ্চিত করা,বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট দূর করা, সেখানে প্রশাসনই যদি সংকট সৃষ্টি করে সেটি সকলের নিকট দুঃখজনক।’ এ সম্পর্কে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শুচিতা শারমিনের বক্তব্য সরজমিনে তার কার্যালয়ে সংগ্রহ করতে গেলে অফিস টাইমে তাকে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীকালে তাকে একাধিকার মুঠোফোনে চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সর্বশেষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি। উল্টো তার কার্যালয়ের গোপনীয় সূত্র বলছে, তিনি ঠিকমত অফিস করেন না। দাপ্তরিক যত ফাইল বেশিভাগ সময় তিনি তার বাসভবনে বসে দেখেন। যেগুলো বিগত উপাচার্যরা খুব কম করেছেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে শহীদদের তালিকা সংগ্রহ চলছে-২০২৪
উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন। গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।


































