পটুয়াখালীর বাউফলে একটি সড়কের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সড়কটি নির্মাণের মাত্র ২৫ দিনের মাথায় বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে ফের গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫-২০২৬ ইং অর্থ বছরে উপজেলা সদর ইউনিয়নের নওমালা-বাউফল সড়কের অলিপুরা বাজার থেকে পৌরসভার হাওলাদার বাড়ি পর্যন্ত ভাঙা সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ৬৮ লক্ষ টাকার চুক্তিতে কাজটি পায় তৌফিক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
রফিকুল ইসলাম, কাওসার জামান ও হাসান নামের একাধিক ব্যক্তি বলেন, কার্যাদেশ পাওয়ার মাত্র ৭দিনের মধ্যে ট্যাগ কোট দিয়ে কার্পেটিং করে দায়সাড়াভাবে কাজটি সম্পন্ন করা হয়। সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করায় মাত্র ২৫ দিনের মাথায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, সিডিউল অনুযায়ী উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি। কাজের শেষে প্রচুর পরিমাণে বিটুমিন ও সিলকোট সাইট থেকে ফেরৎ নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসী বলেন, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রকল্পটি ক্রয় করে নেন বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য ও বাউফল সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল হাওলাদার। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাউফল সদর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী। রাস্তার কাজের ব্যবসা দিয়েই তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন।
তাই নামমাত্র কাজ করে তিনি বরাদ্দকৃত টাকা সঞ্চয় করছেন। অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা মো. কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল হাওলাদার বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে আমার বিরুদ্ধে একটি চক্র অপপ্রচার শুরু করেছেন। এভাবে অপপ্রচার করে আমার জনপ্রিয়তা কমানো যাবে না। আমি সিডিউল মেনেই কাজ করেছি। তিনি বলেন, যদি কোথাও ত্রুটি হয়ে থাকে প্রয়োজনে তা মেরামত করে দেব।
প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা বাউফল এলজিইডির উপসহকারি প্রকৌশলী আলী ইবনে আব্বাস বলেন, বৃষ্টির কারনে সড়কের কার্পেটিং উঠে যেতে পারে। শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুণরায় মেরামত করা হবে।































