ভিসির আড়ালে জামায়াত এজেন্ডা বাস্তবায়ন! স্টাফ রিপোর্টার ॥ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে নিয়োগকৃত ভিসি জামায়াত নেতা অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের দেড় বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ।
ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব। জামায়াত সংশ্লিষ্টতা, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার কেলেঙ্কারি এবং দলীয়করণের মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিরতার মুখে ঠেলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
নিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব: অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতের তৎকালীন এক প্রভাবশালী নেতার প্রত্যক্ষ সুপারিশে ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বাকৃবির অধ্যাপক কাজী রফিককে ভিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি সাবেক ছাত্রশিবির নেতাদের পরামর্শে একের পর এক বিতর্কিত নিয়োগ ও টেন্ডার বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রিজেন্ট বোর্ডে’ মাত্র ৩৫ বছর বয়সী সাবেক এক ছাত্রশিবির নেতাকে সমন্বয়ক পরিচয়ে মনোনয়ন দিয়ে তিনি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেন। এছাড়া জামায়াতের রোকন হিসেবে পরিচিত প্রফেসর আব্দুল লতিফকে ট্রেজারার পদে বসিয়ে প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন।
নিয়োগ বাণিজ্য ও ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা অমান্য: ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী এবং সাবেক ছাত্রশিবির নেতাদের খণ্ডকালীন শিক্ষক ও কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ আছে, ভিসি হওয়ার সময় হওয়া আর্থিক লেনদেনের টাকা তুলতে এই নিয়োগগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
জুন মাসে আরও ১৬ জন শিক্ষককে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় ভিসির পিএস ইকবাল হোসেন ও শিক্ষক সগিরুল ইসলাম মজুমদারের নাম বারবার উঠে আসছে। সগিরুল ইসলামের নিয়োগের ক্ষেত্রে তার আপন ভাই বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে প্রভাব খাটিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
টেন্ডার বাণিজ্য ও বিলাসী জীবন: বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একসাথে ১০০ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুই শতাংশ কমিশন (প্রায় ২ কোটি টাকা) নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভিসির ঘনিষ্ঠ পিএস ইকবাল এই অর্থ লেনদেনের মূল হোতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
Ghumer Medicine Tablet।। ঘুমের ঔষধের নাম সহ দাম(১১০টি)
ঠিকাদারদের উপহারের টাকায় তিনি বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয় করেছেন এবং পবিপ্রবিতে ক্লাস না নিয়ে ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে জানা গেছে। টেন্ডার বাণিজ্যের সুবিধাভোগী অনেক ঠিকাদারই এখন প্রভাবশালী রাজনৈতিক পদে আসীন হওয়ার চেষ্টা করছেন।
আর্থিক অনিয়ম ও ভুয়া বিল: ভিসিপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত দেড় বছরে ভ্রমণ বিল ও বিভিন্ন কেনাকাটার নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
জামায়াতপন্থী এক কর্মকর্তা একাই ২৭টি চেকের মাধ্যমে ৫ লাখ ১৫ হাজার ২৭০ টাকা উত্তোলন করেছেন যার প্রমাণ সময়ের বার্তার হাতে রয়েছে। অনেক কর্মকর্তার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের কারণে তাদের বেতনের টাকায় আর হাত দিতে হয় না।
পক্ষপাতমূলক পদোন্নতি ও প্রতিহিংসা: আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিতের দাবি উঠলেও পবিপ্রবি ভিসি প্রায় ৩৪ জন আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষককে পদোন্নতি দিয়েছেন।
অথচ ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতিত এবং ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলামকে সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিহিংসামূলকভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। রিজেন্ট বোর্ড ও বাছাই বোর্ডের সুপারিশ থাকার পরও গত তিন মাসেও তার আবেদন চ্যান্সেলরের নিকট পাঠানো হয়নি। একই ধরনের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন জিয়া পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম শাহাদাত হোসেন।
কি খেলে দীর্ঘ সময় সহবাস করা যায়
ভেটেরিনারি অনুষদের সংকট: ভিসির ব্যক্তিগত স্বার্থ ও হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে বরিশালের বহিঃস্থ ক্যাম্পাসে অবস্থিত ‘এনিম্যাল সায?েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন’ অনুষদের ৬০০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দ্বন্দ্ব এখন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে, যার ফলে গত তিন মাস ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এবিষয় ভিসি মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় পাওয়া যায়নি। ভিসি রফিকুল ইসলাম মুঠোফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন। গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।































