সিলেটে ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে দুইপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মনির হোসেনসহ ৭ জন পুলিশ সদস্য ও উভয়পক্ষের অন্তত ২৫-৩০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে জুমার নামাজের আগে সিলাম শেখপাড়া এলাকায় দুইপক্ষের মধ্যে জুমার নামাজে আসা কেন্দ্র করে প্রথমে বাগবিতণ্ডা ও পরে ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পালটাধাওয়া শুরু হয়। দীর্ঘ দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই তীব্র সংঘর্ষের ফলে চণ্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে থানার ওসি মো. মনির হোসেনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরবর্তীতে মোগলাবাজার থানা পুলিশ, স্থানীয় মুরব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- শেখপাড়া গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি ও হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি, লতিফুর রহমান মেহদি, শাহ আব্দুল মান্নান, শাহ আবুল, শাহ সুমন, শাহ বদরুল, শাহ হাসান উদ্দিন, শাহ মাহির, শাহ রাজিব, শাহ সায়েম, শাহ সাদি, শাহ আব্দুর রহিম, শাহ আশিকুর রহমান এপলু, শাহ সাবের, শাহ রাসেল, শাহ ফাহিম, শাহ সাইফ, শাহ আজমল, শাহ আশরাফ, শাহ আবজল, শাহ সাইদ, শাহ তুহিন, শাহ দুলাল, শাহ আলবাব, শাহ ওয়াহিদ, শাহ হারুন, শাহ ইয়াসির ও শাহ নয়ন।
আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়াকফ এস্টেটটি পরিচালনা ও এর অধীনস্থ বিপুল সম্পত্তি নিয়ে শেখপাড়া এলাকার দুইপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুরোনো বিরোধ বিদ্যমান। গত ২৯ জুলাই ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেটের প্রশাসক কর্তৃক সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহ-সভাপতি, মো. ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লি, আবেদ রাজা ও আহমদুর রহমান ছাদেককে যুগ্ম মোতাওয়াল্লি এবং মোয়াজ্জেম হোসেন লনি, লুতফুর রহমান বাবু, আব্দুল মতিন শাহিন ও আব্দুস সামাদকে সদস্য করে ৯ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
ওই কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শাহ আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করলে গত ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে অনুমোদিত কমিটি বহাল রেখে কেবল মোতাওয়াল্লি ফজলু মিয়ার কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করেন এবং আবেদ রাজাকে মোতাওয়াল্লির দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
এই আইনি প্রক্রিয়ার টানাপড়েনের জেরে দুইপক্ষের তীব্র উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয় বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত আছে বলে তিনি জানান।































