বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার লোহালিয়া গ্রামে প্রমত্তা আড়িয়াল খাঁ নদের আকস্মিক ভাঙনে এক রাতের ব্যবধানে নদে বিলীন হয়ে গেছে ১১টি বসতঘর। একই সঙ্গে বিলীন হয়েছে গ্রামীণ সড়ক, গাছপালা ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি। এতে বসতভিটা হারিয়ে রাতারাতি ভিটেমাটিহীন হয়ে পড়েছে গ্রামের ১১টি পরিবার। আকস্মিক নদীভাঙনে এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।
মঙ্গলবার বিকেল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কয়েকশ ফুট এলাকা নদে তলিয়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই আকস্মিক ছিল যে, অনেক পরিবার ঘরের আসবাব বা জরুরি মালপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগটুকুও পায়নি। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ কেউ রাস্তার পাশে পলিথিন টাঙিয়ে খোলা জায়গায় বাস করছেন, আবার অনেকে নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে চলা টানা বৃষ্টি ও মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাবে নদে পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার বিকেলে নদের তীরের প্রায় ১০০ ফুট এলাকায় প্রথম ফাটল দেখা দেয়। রাতের মধ্যে ৫০ ফুট সড়কসহ ঘরবাড়ি ধসে পড়তে থাকে।
রহমতপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য জামাল হোসেন পুতুল জানান, আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙনে মোহাম্মদ কলম সরদার, আজহার মোল্লা, মতলব হাওলাদার, হাকিম হাওলাদার, মোহাম্মদ হাসিব, সুফিয়া বেগম, কালাম সরদার ও সামসু হাওলাদারসহ ১১টি পরিবারের বসতঘর, জমি এবং গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদ এখনও উত্তাল রয়েছে।
ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদদর্শনে গিয়ে ইউএনও আসমা উল হুসনা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে তাৎক্ষণিক জরুরি খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। তিনি বলেন, অন্যান্য প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নদের ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে পাউবোসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করা হচ্ছে।
বরিশাল পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘লোহালিয়া গ্রামে অবস্থিত মীরগঞ্জ বাজার ও ফেরিঘাট রক্ষার জন্য আপৎকালীন জরুরি বরাদ্দ হিসেবে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০০ মিটার জায়গাজুড়ে ১৫ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমান ভাঙন স্থানটি সেখান থেকে কিছুটা দূরে। আড়িয়াল খাঁ নদের বর্তমান পয়েন্টে গভীরতা এবং স্রোত অনেক বেশি। শুধু আপৎকালীন জিও ব্যাগ ফেলে এই ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধ করা সম্ভব নয়। নদের ড্রেজিংসহ স্থায়ী নদীশাসন ও ব্লক পাইলিংয়ের জন্য বৃহৎ প্রকল্পের বড় বরাদ্দের প্রয়োজন।’






























