নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বিএম কলেজে ছাত্রদলের দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার নগরের জিয়া সড়ক এলাকায় সংঘটিত হাতাহাতির ঘটনার জের ধরে রাতে কলেজ ক্যাম্পাস ও ডিগ্রি হোস্টেল এলাকায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নগরের জিয়া সড়কে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সোহান, বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম রাতুল এবং সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব আল আমিন মৃধার মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এর জের ধরে রাতে বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত সিরাজুল ইসলাম রাতুল তার সহযোগীদের নিয়ে ডিগ্রি হোস্টেলের সামনে অবস্থান নেন। পরে সেখানে আল আমিন মৃধাসহ তার অনুসারীরাও উপস্থিত হলে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে যায়।
সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে যান মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনীম ও সদস্য সচিব তুষার। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে পরে রাতুল তার অনুসারীদের নিয়ে কলেজসংলগ্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের কারণে এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনীম ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করান।
বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সাইফুল বাশার বলেন, দুপুরের ঘটনার জেরে সন্ধ্যার পর আল আমিন মৃধার নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসে প্রবেশ করেন। এ সময় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে গেলে মহানগর ছাত্রদলের নেতারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে রাতুলের অনুসারীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে।
মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনীম সাংবাদিকদের বলেন, আরেক দফা সংঘর্ষ এড়াতে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে একটি পক্ষ সড়ক অবরোধ করে। তারা কারও কথা মানছিল না। পরবর্তীতে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করিয়েছি।
এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, ছাত্রদলের দুই পক্ষের বিরোধের জেরে বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের তৎপরতা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।




























