ফেনীতে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও পরকীয়ার জেরে স্ত্রী আরজিনা আক্তারকে হত্যার দায়ে একরামুল হক ছুট্টু নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএনএম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত একরামুল হক ছুট্টু দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের মালেক মাস্টার বাড়ির সৈয়দ আহমদের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি ফেনী পৌরসভার বারাহীপুর এলাকার আরজিনা আক্তারের সঙ্গে একরামুল হক ছুট্টুর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর ছুট্টু অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়।
একপর্যায়ে ছুট্টু স্ত্রীর পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আরজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ২৬ আগস্ট রাতে নির্যাতনের একপর্যায়ে আরজিনা মারা যান। পরদিন ২৭ আগস্ট পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত আরজিনার মামা মীর হোসেন দুলাল বাদী হয়ে একরামুল হক ছুট্টুকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে দাগনভূঞা থানায় মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে একরামুল হক ছুট্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন। পলাতক আসামিকে গ্রেফকারের পর আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

































